শরীয়তপুরে ১২ বছর বয়সে হাফেজ হলেন রুবায়েত ও মৃদুল
রুবায়েত সরদারের বয়স মাত্র ১২ বছর, আর মৃদুল ইসলামের ১৩। এই বয়সেই তারা রপ্ত করেছে পবিত্র কুরআন শরীফের প্রতিটি পৃষ্ঠা। কয়েক মাসের নিরলস পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে তারা অর্জন করেছে হাফেজ হওয়ার গৌরব। অল্প সময়ে এমন অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃদুল ইসলাম শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাড়ৈপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা রুবেল হাওলাদার এবং মা মাহিনূর বেগম। অন্যদিকে রুবায়েত সরদার গোলারবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আমিনুল হক তপন ও মা আয়েশা খানম। তারা দুজনই নড়িয়া উপজেলার পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল তাদের সন্তানদের। কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের আন্তরিক তত্ত্বাবধানে তারা আজ হাফেজ হওয়ার মর্যাদা অর্জন করেছে। কায়দা, আমপারা ও নাজেরা শেষ করার পাশাপাশি কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করে। তাদের এমন সাফল্যে মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজন করা হয় দোয়া ও মোনাজাতের। অনুষ্ঠানের শেষে তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: থামছে না পুশ-ইন চাপ, অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়?
নবীন এই হাফেজরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। শুধু হাফেজ হয়েই থেমে থাকতে চান না। আগামীতে মাওলানা ও আলেম হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চান। ইসলামের সুমহান আদর্শ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে সমাজকে সুন্দর ও মানবিক করে গড়ে তোলাই তাদের স্বপ্ন। হাফেজ হওয়া মৃদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিলো আমাকে কোরআনের হাফেজ বানাবে। তাদের স্বপ্নপূরণে আমিও মেহনত করেছি। আজ আমি আলেম হয়েছি। আগামীতে বড় আলেম হয়ে দেশের খেদমত করবো।
হাফেজ হওয়া রুবায়েত সরদার বলেন, আমি আমার বাবা মায়ের ইচ্ছে পূরণ করেছি। এখন আমার স্বপ্ন অনেক বড় হওয়া। আমি বড় হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করবো।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর আমের তুলনা নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
অল্প বয়সে কিশোদের এই সাফল্য শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামীতে তারা আরও বড় হবে বলে প্রত্যাশা স্বজনদের। মৃদুলের মা মাহিনূর বেগম বলেন, আমার বাচ্চা যখন ছোট ছিলেন তখন থেকেই আমাদের স্বপ্ন ছিল ওকে মাদ্রাসা লাইনে পড়াশোনা করাবো। যাতে ও হাফেজ হতে পারে। আমার ছেলে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আজ আমার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। আমার ইচ্ছে আমি ওকে এখন মাওলানা বানাবো। আল্লাহ যদি কবুল করে ও মাওলানা হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।
পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসার প্রধান অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুস ছাত্তার খান বলেন, ২০১৯ সালে আমাদের এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সেই থেকে এ পর্যন্ত এই মাদ্রাসা থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ৯৯ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে। আমিরা শুধু কুরআন মুখস্থ করানো নয়, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করি। আমরা আশা রাখি, এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে মাওলানা ও আলেম হয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত হবে এবং ইসলামি শিক্ষা ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





