দীর্ঘসূত্রতা ও ঘুষের অভিযোগ

এনআইডি সংশোধনে সেবাপ্রার্থীদের দুর্ভোগ

Sanchoy Biswas
দিপু চন্দ্র গোপ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। নাম, ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্য সংশোধনের মতো মৌলিক সেবা পেতে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও বারবার অফিসে আসতে বলা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না। কখনো উপজেলা, কখনো জেলা নির্বাচন অফিস বা ঢাকার নির্বাচন কমিশনে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে বহু এনআইডিতে নামের বানান ভুল, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্যের অসঙ্গতির কারণে নিয়মিত সংশোধনের আবেদন জমা পড়ে। ভুক্তভোগী ফুলমালা আক্তার অভিযোগ করেন, নাম সংশোধনের আবেদন করার পর তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ৭ হাজার টাকায় কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, টাকা না দেওয়ায় আমার আবেদন নিয়ে টালবাহানা করা হয়েছে। সরকারি সেবা পেতে যদি ঘুষ দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আরেক সেবাপ্রার্থী নীলুফা বেগম বলেন, কয়েক মাস ধরে একটি ভুল সংশোধনের জন্য ঘুরছেন তিনি। প্রতিবারই নতুন কাগজপত্রের অজুহাতে কাজ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অনেক সময় অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাবিহা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া হলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। ঘুষ বা হয়রানির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি তার। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সরকারি দপ্তরে সেবা প্রদানে গাফিলতি বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এনআইডি সংশোধনের মতো নাগরিক সেবায় ভোগান্তি কমে আসবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে।