কিশোরগঞ্জে গ্যাস সঞ্চালন লাইন কেটে চোরাই সংযোগের চেষ্টা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে থাকা তিতাসের ৮ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন লাইন কেটে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় মাস ধরে পাইপলাইন থেকে গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পানির উচ্চতা ও নদীর তলদেশে বালু থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে বেগ পেতে হচ্ছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে।
শনিবার (১ আগস্ট) কটিয়াদী উপজেলার কাজীরচর বাজারসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিতাস গ্যাসের ভালুকা জোনের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সুমেধ মনি চাকমার তত্ত্বাবধানে কর্মীরা বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাইপলাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: টং দোকানে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ, এক বস্তা খাতা জব্দ
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় চার দশক আগে নরসিংদীর মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে গ্যাস সরবরাহের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ দিয়ে এই সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি কাজীরচর এলাকায় চুনের কারখানা স্থাপনের জন্য ভাড়া নেওয়া একটি জমিতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের আঁধারে কয়েকটি যানবাহনে করে লোকজন এসে পাইপলাইনে কাজ করছিল। টানা বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই পাইপের কাটা অংশ দিয়ে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকে। গ্যাসের চাপে নদীর পানি ওপরে ছিটকে ওঠে এবং আশপাশে তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নান্দাইলের সাবেক এমপি তুহিনসহ ৩০ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৪
তবে চোরাই গ্যাস সংযোগ বা গ্যাস পাচারের অভিযোগগুলো স্থানীয়দের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
তিতাস গ্যাসের ডিজিএম সুমেধ মনি চাকমা বলেন, বর্ষার পানি ও নদীর তলদেশের বালুর কারণে মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও দ্রুত লাইনটি সচল করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, মেরামত শেষে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, তিনি এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিতাস কর্তৃপক্ষের মেরামতকাজে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করছে। তিতাসের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, এতদিন ধরে পাইপলাইন কাটার মতো একটি গুরুতর ঘটনা ঘটলেও তা স্থানীয়ভাবে নজরে না আসা বিস্ময়কর। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এদিকে, অভিযোগে নাম আসা চুন কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





