চলনবিলে রিং জালের দৌরাত্ম্য

মা ও পোনা মাছ নিধনে হুমকিতে মৎস্যসম্পদ, অভিযানের হুঁশিয়ারি প্রশাসনের

Sanchoy Biswas
আলাউদ্দিন আহমেদ, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ন, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ষার নতুন পানি নামতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিল অঞ্চলে বেড়েছে নিষিদ্ধ রিং জাল (চায়না দুয়ারী) ও কারেন্ট জালের ব্যবহার। অবাধে মা মাছ ও রেণু-পোনা নিধনের ফলে দেশীয় মৎস্যসম্পদ এবং চলনবিলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ়-শ্রাবণে নতুন পানির সঙ্গে চলনবিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। এ সময় মাছ ডিম ছাড়তে বিলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু জেলে বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত নিষিদ্ধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল পেতে মাছ শিকার করছেন। এসব জালে রেণু-পোনা থেকে শুরু করে ডিমভরা মা মাছও আটকা পড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ জাল ও পোনা মাছ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, নিষিদ্ধ রিং জাল দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। নতুন পানির এই সময়টিই দেশীয় মাছের বংশবিস্তারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে আইন অমান্য করে নির্বিচারে এসব জাল ব্যবহার করছেন। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, চলনবিলের মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মা মাছ ও পোনা নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। খুব শিগগিরই চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যারা নিষিদ্ধ জাল তৈরি, বিক্রি বা ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল ৪ যানবাহন

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ জালের উৎপাদন ও বিক্রির উৎস বন্ধ করা জরুরি। অন্যথায় চলনবিলে দেশীয় মাছের উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।