বৃষ্টি ও তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে বাঁশের সাঁকো, টিনের তৈরি ছোট নৌকায় পারাপার

Sanchoy Biswas
সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:২২ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় টানা বৃষ্টি ও তীব্র স্রোতে দামুড়হুদার কালিয়াবকরী-দুলালনগর গ্রামের ভৈরব নদের ওপর নির্মিত একমাত্র বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টিনের তৈরি ছোট নৌকায় পারাপার করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এ উপজেলার দুলালনগর, নতিপোতা, কালিয়াবকরী, পোতারপাড়া, গোপালপুর ও ভগিরথপুরসহ ১০টি গ্রামের মানুষ ভৈরব নদের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার হয়ে জগন্নাথপুর বাজার, কৃষি ব্যাংক, চারুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাজনপুর কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সহজেই যাতায়াত করতেন। বৃষ্টি ও স্রোতের কারণে সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেলচালক, কৃষক, রোগী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদেরকে ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বোগদাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভেঙে যায় বাঁশের সাঁকোটি। গত ৭০ বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ। সেতু নির্মাণের দাবি করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় এসে স্থান পরিদর্শন এবং মাপজোক করেছেন। কিন্তু সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

দুলালনগর গ্রামের কৃষক আরমান আলী জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে টিনের তৈরি ছোট নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। কিন্তু নৌকায় দুইজনের বেশি পার হওয়া যায় না। ফলে সময়মতো কৃষিকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হলে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে পরিত্যক্ত ঘরে ঘোড়া জবাই, গরুর মাংস বলে বিক্রির আশঙ্কা

আনছার আলী নামে একই গ্রামের বাসিন্দা বলেন, সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য শহরের বাজারে নিতে পারছেন না কৃষকরা। আসছেন না ব্যাপারিরাও। এতে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও খরচ বাড়ছে।

কালিয়াবকরী গ্রামের বাসিন্দা জামাত আলী বলেন, সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি এখনও। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল, স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতির গতি ফেরাতে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা সময়ের দাবি।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হোসেন জানান, এ উপজেলার কালিয়াবকরী-দুলালনগর ফেরিঘাটে ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।