বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয়-তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর
বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বৈষম্য ও অবহেলা দূর করে সমগ্র উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সুনিশ্চিত করা হবে বলে বক্তব্য প্রদান করেন।
গতকাল (৮ আগস্ট) শনিবার বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি)।
আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে তিনজন নিহত, আহত-৫
শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ৪শ একর জমিতে বিসিক শিল্প পার্ক, বগুড়ায় বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ, শহরের রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, বগুড়া সড়ক জোন স্থাপন, আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ক্রীড়াগ্রাম এবং করতোয়া নদীর পুনর্জীবন একের পর এক উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বৈষম্য ও অবহেলা কাটিয়ে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয় জানিয়েছেন সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে সাত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। এতে বগুড়ার ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সাহসী ভূমিকায় আনসার, রক্ষা পেল বাজার
তিনি বলেন যে, আমাদের জরিপে বগুড়ার শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সেই চাহিদা অনুযায়ী বগুড়ার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়ায় ৪শ একর জমির ওপর বিসিক শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে। এছাড়াও বগুড়া আমাদের সবার আবেগের কেন্দ্র। এ অঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বগুড়া বাংলাদেশের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। জাতীয়তাবাদের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বগুড়ার সন্তান। দেশ গঠনে তার অবদান কোনোদিন ভোলার নয়। বগুড়ার কাছে এজন্য পুরো দেশ কৃতজ্ঞ থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছর যাবত বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ বগুড়ার মানুষ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এ অঞ্চলের মানুষ পরিশ্রমী ও সৎ। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই বগুড়ার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বগুড়া খাদ্য উদ্বৃত্ত একটি জেলা। বগুড়ায় উৎপাদিত পণ্য প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকার বাজার তৈরি করে পুরো দেশ-বিদেশে যায়। অথচ এতদিন আমরা অবহেলিত ছিলাম। বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বগুড়ার ঘাটতি পূরণ করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন যে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নিয়ে ‘আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।’ বগুড়া বিমানবন্দর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে যেন অন্তত দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানবন্দরটি চালু করা যায়, সে চেষ্টা চলছে। আগামী মাস থেকে ড্রোন তৈরির কারখানার কাজ শুরু হবে।
এছাড়াও বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে শহরের রেললাইনের ওপর দিয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে। করতোয়া নদীর প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগে এক সময়ের খরস্রোতা করতোয়া নদীতে আবারও প্রাণ ফিরে আসছে। ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, বগুড়ার তিন মাথায় ক্রীড়াগ্রাম নির্মাণ করা হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ক্রীড়ার প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বগুড়ার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বগুড়ার সঙ্গে গোপালগঞ্জের তুলনা চলে না। বগুড়ার ওপর দিয়ে ১৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। কৃষি, শিল্পসহ সবদিক থেকেই বগুড়া সমৃদ্ধ। গত ২০ বছর বগুড়াকে নানাভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার নাম শুনলেই গত ২০ বছর নানা অবহেলা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌফিকুর রহমান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ হামিদুল হক চৌধুরী হিরু।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।





