এআই নিয়ে নীতিমালা চাইলেন

জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩২ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে দেশের সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল যেন বিশ্ববাসী সমানভাবে পায়, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তার ভাষণে সামাজিক সুরক্ষা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, প্রযুক্তির বৈষম্য এবং এআই-র ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এর বিকল্প অকল্পনীয় : খলিলুর রহমান

তারেক রহমান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছায়। এ লক্ষ্যেই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে সরকার। পাশাপাশি ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন কার্ড চালু করা হয়েছে। এসব কার্ড সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৪৮

এআই নিয়ে বার্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ গড়বে। বিশ্ব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়।

বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

“আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক”— জাতিসংঘে বলেন তারেক রহমান।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে।

এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সে জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমানের ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াকেই তিনি সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।

চূড়ান্ত সমাধানের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।  বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ পরিস্থিতিতে ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে কপ-৩১-এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা-খরার প্রভাব মোকাবিলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।