সীতাকুণ্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া
জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের ব্যাপক অভিযান
সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে দুই গ্রুপের আগ্নেয়াস্ত্রসহ ব্যাপক সংঘর্ষ ও ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। গতকাল বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সীতাকুণ্ড পৌরসদরে অস্ত্রের মহড়া দেয়া সন্ত্রাসীদের খোঁজে এ অভিযান পরিচালনা করে। সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের এ অভিযানে পৌরসদরে আগ্নেয়াস্ত্র মহড়ার নেতৃত্ব দেয়া রোকন মেম্বারের আস্তানা সহ সন্ত্রাসীদের খোঁজে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সার্বিক সফলতায় বিষয়টি এ মহূর্তে আর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সন্ত্রাসীদের সনাক্ত কার হয়েছে। প্রসঙ্গত গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসদরের হাসান গোমস্তা জামে মসজিদ এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন‘কে কেন্দ্র করে দলের দুই গ্রুপর মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বেলা একটার দিকে পৌরসদরের দক্ষিণ বাইপাস হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মো. আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে এই সংঘষের্র সূত্রপাত হয়। হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মদ-ফেনসিডিল জব্দ
সে দিন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সীতাকুণ্ডের উপজেলা গেইট সংলগ্ন মুনস্টার ক্লাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কাজী মো. সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। একই ক্লাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও। একই স্পটে দুই পক্ষের কর্মসূচিতে চরম উত্তেজনায় উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ আহত হন। পুলিশ দুটি পক্ষকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে পৃথক সময় নির্ধারণ করে দিলেও আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা অমান্য করে। এতে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ৩ টি মিনিবাসও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। এদিকে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার প্রতিবাদে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়ীয়া এলাকায় মহাসড়কের দুই লেন আটকে বিক্ষোভ করে।
বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে আগেই উপজেলা প্রশাসন ও সীতাকুণ্ড থানা থেকে অনুমতি নেন। কিন্তু সকাল থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ককটেল বিষ্ফোরণ সহ ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল মুনস্টার ক্লাবে জোরপূর্বক অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমার ভাই কাজী নাজিম উদ্দিন সহ ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়। তবে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি দৃঢ়ভাকে অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. কমল কদর। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহীনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অগ্নেয়াস্ত্র যারা প্রদর্শন করেছে তাদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গল সলিমপুর সহ উপজেলাব্যাপী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৫ দিন পর দেশে ফিরল ইরাক প্রবাসী রেজাউল ইসলামের মরদেহ





