নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন ষষ্ঠ স্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৪ অপরাহ্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে এক নারীসহ থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তার দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: হরিরামপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নৌ-ভ্রমণ

ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নামে এক নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

আন্নির অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় কর্মরত ছিলেন, সেখানেই বিয়ে করতেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বালিপাড়া ব্রিজে অবৈধ টোল আদায় বন্ধ

তার দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব ওই এলাকায় তার কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া একটি ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে একজন নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আন্নির ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ভেতরে মাহবুব আলম থাকার বিষয়টি জানতে পারলেও প্রথমে দরজা ভাঙেনি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা খুলে দিলে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনা হয়।

পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা নারীকে মাহবুব আলম তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে মাহবুব আলম দাবি করেন, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে আন্নির দাবি, তিনি তালাকের কোনো কাগজ পাননি।

আন্নি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে দেখেছেন। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় মাহবুব আলম ও ওই নারীকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়। মাহবুবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান আন্নি।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের রাজশিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে তিনি কাউকে জানাননি এবং তার কোনো ছুটিও নেই। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।