৪ লাখ টাকার জন্য স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ
নেত্রকোণার মদনে ব্যবসার জন্য শাশুড়ির কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে চার লাখ টাকা ফেরত দেওয়া এবং আরও চার লাখ টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহিদী হাসানের (২৮) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে অভিযুক্ত করে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আসমা আক্তার (২১)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: চুয়েটে উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই তালা দিলো শিক্ষার্থীরা
অভিযুক্ত অন্য তিনজন হলেন মেহিদী হাসানের বাবা ইয়াসিন মিয়া (৫৫), মা পেয়ারা আক্তার (৫০) ও ভাই গোলাম রাব্বি (২৬)। তাঁরা মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কুটুরিকোণা গ্রামের বাসিন্দা। আর আসমা আক্তার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দশধরী গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন মুন্সীর মেয়ে।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে আসমা আক্তার ও মেহিদী হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্যবসা করার কথা বলে আসমার মায়ের কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন মেহিদী। পরে তিনি আরও চার লাখ টাকা দাবি করেন। তবে আসমার মা ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চুয়েটে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য
অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কুটুরিকোণা গ্রামে স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে মেহিদী আবারও চার লাখ টাকা দাবি করেন। আসমা তাঁর মায়ের কাছে টাকা না থাকার কথা জানালে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আসমা।
এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ ছাড়া তলপেটে লাথি মারার কারণে রক্তক্ষরণ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বামী মেহিদী হাসান। তিনি বলেন, ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, যার প্রমাণও রয়েছে। আসমাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম বলেন, রোববার অভিযোগটি পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





