কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল
কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। আটক আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পূর্বপরিচয়, দামি আইফোনের প্রতি আগ্রহ এবং ঘটনার দিনের নানা গতিবিধির তথ্য।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন। অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন ও তার সহযোগীদের পরিচয় ছিল প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে থেকেই। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা একসঙ্গে ঘুরতে যেত, ছবি তুলত, এমনকি টিকটক ভিডিও তৈরির জন্য মোটরসাইকেলে বের হতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: সখীপুরে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে নিখোঁজ, যুবকের মরদেহ উদ্ধার
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের দামি আইফোনটির প্রতি তুহিন ও তার সহযোগী ফাহাদের আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ফোনটি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তারা লালমাই পাহাড়ের দিকে যায়। সেখানে যাওয়ার পরও সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হয়—তোলা হয় ছবি ও সেলফি।
আরও পড়ুন: মেয়েকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা, যা বললেন মা
কিন্তু সেই স্বাভাবিক ঘোরাঘুরির আড়ালে যে ভয়ংকর ঘটনা অপেক্ষা করছিল, সেটি কি অপ্রতিম তখন বুঝতে পেরেছিল?
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার পর সেটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তুহিন তাকে থাপ্পড় দেন এবং পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তার দুই সহযোগীকেও আঘাত করতে বলা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি দামি ফোনকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর জীবন এভাবে থেমে যাবে—অপ্রতিম কি কখনো তা কল্পনাও করেছিল?
বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিল ছোট্ট অপ্রতিম। হয়তো তার ভাবনাতেও ছিল না, সেই ঘোরাঘুরিই তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে যাবে।
একটি ফোনের জন্য একটি পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেল।
আর অপ্রতিমের আপনজনদের কাছে থেকে গেল শুধু প্রশ্ন—এত ছোট্ট একটি জীবন কেন এভাবে শেষ হয়ে গেল? হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৩১ দিন পর,যাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে তারা হলেন তুহিন, ফরহাদ, কামরুল ,সিয়াম এরাই পরিকল্পিতভাবে অপ্রতীমকে হত্যা করেছে বলে আদালতেও স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।





