সোনারগাঁয়ে দূষণে কালো ব্রহ্মপুত্রের পানি, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। কার্তিক মাসে নদে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দূষণের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নদের পানি কুচকুচে কালো হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিপাকে পড়েছেন নদতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। দূষণের কারণে দেশীয় মাছও তেমন দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী, সাদিপুর ও জামপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন অংশে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। সম্প্রতি সনমান্দী ইউনিয়নসংলগ্ন নদের বিভিন্ন স্থান ঘুরে পানির কালচে রং ও দুর্গন্ধের চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও পানি ও কাদার মিশ্রণ ঘন কালো রূপ ধারণ করেছে। নদের পাড়ে গেলেই নাকে আসছে পচা ও কটু গন্ধ।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাস, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুক্ত করতে হবে- এবিএম সিরাজুল মামুন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশপাশের শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদে ফেলার কারণে দূষণ বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার অনুপযোগী
আরও পড়ুন: আগামী ১০ বছরেরও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভবনা নেই : ভোলায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
একসময় নদতীরবর্তী গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ব্রহ্মপুত্রের পানি। গোসল, থালাবাসন পরিষ্কার করা এবং গবাদিপশু ধোয়ানোর মতো কাজে তাঁরা এ পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে পানির দূষণ ও দুর্গন্ধের কারণে এসব কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে কার্তিক মাসেও নদের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার থাকত। এখন পানিতে নামলে শরীরে চুলকানি ও ঘা দেখা দেওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে। দুর্গন্ধের কারণে নদের পাড়ে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। গবাদিপশুকে এ পানি খাওয়ানো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পানি কমতেই দূষণের তীব্রতা প্রকাশ
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষাকালে নদে পানির প্রবাহ বেশি থাকায় দূষণের মাত্রা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। কিন্তু হেমন্তের শুরুতে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় শিল্পবর্জ্যের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নদে দূষণের কারণে জলজ প্রাণী ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ অবস্থায় ব্রহ্মপুত্র নদের দূষণ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, শিল্পকারখানার বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা পরীক্ষা, নদে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দূষণের উৎস শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নদের পানি পরীক্ষা করে দূষণের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





