বিজিবির অভিযানে এক মাসে ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:১০ অপরাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত জানুয়ারি ২০২৬ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত চোরাচালান পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৯৪০.১৭৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১৪ কেজি ৩৩৭ গ্রাম রৌপ্য, ২১ হাজার ২৭১টি শাড়ি, ১১ হাজার ৮৮৩টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৩ হাজার ৬০৫টি তৈরি পোশাক, ২ হাজার ১৮২ মিটার থান কাপড় এবং ৪ লাখ ৩ হাজার ৪২৭টি কসমেটিকস সামগ্রী।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ১৫৩ পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৫ পিস ইমিটেশন গহনা, ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬৯টি আতশবাজি, ১১ হাজার ৪৫১ ঘনফুট কাঠ, ৮ হাজার ৯২৯ কেজি চা পাতা, ২১ হাজার ৬৫৯ কেজি সুপারি, ২৯ হাজার ৪৬০ কেজি কয়লা, ১ হাজার ২৫০ ঘনফুট পাথর এবং ৩৭১টি মোবাইল ফোনসহ ৩ হাজার ৭৮৯ পিস মোবাইল যন্ত্রাংশ।

জব্দকৃত অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩০ হাজার ৫৭৫টি চশমা, ৪১ হাজার ৭০৩ কেজি জিরা, ৯ হাজার ৭৮৬ কেজি চিনি, ৮ হাজার ৭৩৫ কেজি পেঁয়াজ, ৭ হাজার ৪০৯ কেজি রসুন, ৮ হাজার ২৪১ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১৮ হাজার ৭৯৯ কেজি সার, ২ হাজার ৭৪৫ প্যাকেট কীটনাশক, ৫৩৮ লিটার ডিজেল এবং ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫১১ পিস চকোলেট।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, বডি ক্যামেরাসহ বাড়তি নিরাপত্তা

এছাড়া ৯৭৩টি গরু ও মহিষ, একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত ১০টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ১২টি পিকআপ ও মহেন্দ্র, ৫টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস, ১টি ট্রলি, ২৯টি সিএনজি ও ইজিবাইক, ৫২টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি ভ্যান ও বাইসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি দেশি ও বিদেশি পিস্তল, ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি ম্যাগাজিন, ১৮৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১টি মর্টার সেল, ১টি ককটেল এবং ২৮টি অন্যান্য অস্ত্র।

এছাড়াও জানুয়ারি মাসে বিজিবি কর্তৃক উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ৭৩০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ১৫৬ বোতল ফেনসিডিল, ৮ হাজার ৯৭০ বোতল বিদেশি মদ, ১৯৮ লিটার বাংলা মদ, ১ হাজার ২১৬ ক্যান বিয়ার এবং ১ হাজার ৯২৯ কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা।

উদ্ধারকৃত অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭০৯ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৯৬ হাজার ৬৩৮টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ৬ হাজার ৭৯টি ইস্কাফ সিরাপ, ১৬ হাজার ২৫৬টি এ্যানেগ্রা ও সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৩ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ ও ট্যাবলেট।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭২ জন চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ১১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ১৫৯ জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।