কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ

বাংলাবাজার পত্রিকা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, ১৩ নভেম্বর ২০২৩ | আপডেট: ৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৩ নভেম্বর ২০২৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আজ নন্দিত কথাসাহিত্যিক, গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিন। প্রতি বছর প্রিয়জনদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটতেন তিনি। ভক্তরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন প্রিয় লেখককে। তার জন্মদিনটি নানা আয়োজনে পালিত হতো। এবারও নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে। ক্ষণজন্মা এ কথাশিল্পীর ২০১২ সালে জীবন কেড়ে নেয় মরণঘাতী ক্যানসার।

বাবার রাখা প্রথম নাম শামসুর রহমান হলেও পরে তার বাবা ছেলের নাম বদলে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ। তার জন্ম ১৯৪৮ সালের এই দিনে নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে। পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মাতা আয়েশা ফয়েজ। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার এক ভাই কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অন্য ভাই আহসান হাবীব কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক। রসবোধ আর অলৌকিকতার মিশেলে বাংলা কথাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার দীর্ঘ ৪ দশকের সাহিত্যজীবনে উপহার দিয়েছেন সাড়া জাগানো সব উপন্যাস। তৈরি করেছেন হিমু, মিসির আলীর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। নির্মাতা হিসেবেও উপহার দিয়েছেন জনপ্রিয় নাটক এবং চলচ্চিত্র। বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তার মধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমি পরিচালিত ৮ পুরস্কার পেলেন ৯ জন

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে চ্যানেল আই নানা আয়োজন করেছে। এই দিন হিমু আর রূপা সেজে তরুণ-তরুণীরা নীল শাড়ি ও হলুদ পাঞ্জাবি পরিধান করে আনন্দ শোভাযাত্রায় গানে গানে গোটা শহর মাতিয়ে তোলে। চলে আড্ডা, বক্তৃতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশে পাঠক সৃষ্টিতে অসাধারণ ভূমিকা রেখে গেছেন।

হুমায়ূন আহমেদ ‘নন্দিত নরকে’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘বাদশা নামদার’সহ দুই শতাধিক উপন্যাস লিখেছেন। তার রচিত ‘হিমু’, ‘শুভ্র’, ‘মিসির আলি’র মতো অনবদ্য চরিত্র। আশির দশক থেকে শুরু করে তার নির্মিত ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’-এর মতো নাটকগুলো বর্তমান প্রজন্মের কাছেও এখনো একইভাবে জনপ্রিয়।

আরও পড়ুন: বাগেরহাট থিয়েটারের বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠন

শিল্প ও সাহিত্যের সব শাখাতেই সফল এই ব্যক্তিত্বের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ হয় ১৯৭২ সালে। এরপর তার রচিত তিনশতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে ১৯৯৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর একে একে তার নির্মাণে মুক্তি পায় ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ (২০০০) ও ‘দুই দুয়ারী’ (২০০১) ‘চন্দ্রকথা’ (২০০৩), ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৪), ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’ (২০০৬) ‘আমার আছে জল’ (২০০৮) ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ (২০১২)।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে হুমায়ূন আহমেদ ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ২৪ জুলাই নন্দিত এই লেখকের প্রিয় জায়গা নুহাশ পল্লীতে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এদিকে আজ (১৩ নভেম্বর) এই কিংবদন্তির জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে তার জন্মস্থান নেত্রকোনা এবং গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে।