ঢাকার ঐতিহাসিক স্থান আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ পূর্বাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ আর ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, এসব ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়ারীতে অবস্থিত ঢাকা খ্রীষ্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি 'আদি ঢাকা'র বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।”

আরও পড়ুন: ধোলাইখালে ময়লার স্তূপ ঠেকাতে ‘সবুজ লড়াই’

​ওয়ারী এলাকার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি ও অভিজাত এলাকা। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে বসবাস করতেন। পাশে অবস্থিত বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

​সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশে 'সংখ্যালঘু' বলতে কোনো শব্দ নেই; আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক। আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।”

আরও পড়ুন: রাড্ডা ক্লিনিকে ফিরল নিজস্ব সাইনবোর্ড, শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ

​উদ্বোধনের সময় প্রশাসক জানান, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হবে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হবে। উক্ত কবরস্থানটি সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

​আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা সরু হলেও তা পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা হবে। এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।