সীতাকুণ্ডে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার শিশুর মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ০৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ০৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আট বছর বয়সী এক শিশু শেষ পর্যন্ত মারা গেছে।

শিশুটির চাচা মো. আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: উত্তরায় পুলিশের ওপর হামলা: কিশোর গ্যাং লিডারসহ গ্রেফতার ৮, আদালতে পাঠানো ১৬

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। শিশুটির মা রোববার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৮–১০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানটি ভূমি থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু এলাকায় অবস্থিত এবং সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার পথের একটি অংশের কাছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ছিনতাই নীরব চাঁদাবাজি

সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, রোববার সকালে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড় থেকে নেমে আসছিল এবং সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার গলায় গভীর আঘাত থাকায় কথা বলতে পারছিল না।

শ্রমিকরা দ্রুত কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরে একটি বালুবাহী গাড়িতে করে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

শিশুটির পরিবার জানায়, তারা সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায় বসবাস করেন। ঘটনার দিন সকালে শিশুটি ‘খেলতে যাচ্ছি’ বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরিবারের ধারণা, সে প্রতিদিনের মতো দাদির বাড়ির দিকে যাচ্ছিল।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে তাকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলো, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিশুটির চাচা বলেন, “ওকে নির্যাতনের পর হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আমাদের ধারণা। আমরা চাই দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “শিশুটি কীভাবে এত দূরে গেল এবং কারা জড়িত—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটু সময় দিন, আমরা জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।