স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো, স্ত্রী গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে আসমা আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে মরদেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আসমা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: ৯ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং মামলায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস গ্রেফতার
জানা গেছে, পিরোজপুরের বাসিন্দা আসমা আক্তারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের পরিচয় হয় মোবাইল ফোনে। প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
বিয়ের পর জিয়া সরদার আসমাকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখেন। পরে দেশে ফিরে চন্দ্রপুর এলাকায় নতুন বাসায় ওঠেন তারা। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন: অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মাসের ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি মারা যান।
পরে মরদেহ গোপন করতে ছুরি দিয়ে দেহ কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। কয়েক দিন পর মরদেহের অংশ বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসমা মরদেহের কিছু অংশ পুরনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিহতের হাত-পায়ের অংশ নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজন শাহাদাত হোসেন শাহেদ এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতে রাগের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি মারা যান। পরে ভয় পেয়ে মরদেহ টুকরো করেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





