সমকামিতার অভিযোগ তদন্তের বৈঠক চলাকালে ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে সমকামিতার অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির বৈঠক চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় হলের প্রভোস্ট কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সন্ধ্যা থেকে হল এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, অভিযোগের পরপরই হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসনের অনুরোধে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন-২০২৬, জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা
তিনি বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ ধরনের ঘটনায় পক্ষ-বিপক্ষ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
প্রক্টর আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তদন্ত পক্ষপাতহীনভাবে পরিচালিত হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ১১ নভেম্বর থেকে ঢাবির আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি আবেদন শুরু, পরীক্ষা ডিসেম্বরে
এর আগে শনিবার শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে অবস্থানরত দুই বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কক্ষের বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিলকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বলে জানান প্রক্টর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নিয়ম প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে বহিরাগত ব্যক্তির অবস্থানের অনুমতি নেই। তিনি বলেন, “রুলস অনুযায়ী কোনো বহিরাগত হলে থাকতে পারেন না। ছেলেদের হলে অনেক সময় অতিথি এলে থেকে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও সেটি নিয়মসিদ্ধ নয়।”
তিনি আরও জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইব্রাহিম খলিল নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা দুই ব্যক্তিকে মানবিক কারণে কক্ষে থাকতে দিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতেই একদল শিক্ষার্থী শহীদুল্লাহ হলে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
উল্লেখ্য, ইব্রাহিম খলিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে শহীদুল্লাহ হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন।





