সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

Sanchoy Biswas
আরাফাত চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ২:১০ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সম্পূরক বৃত্তি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে ২ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন: ঢাবির রিসার্চ মেথডলোজি ও সায়েন্টিফিক রাইটিং প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ

তাদের দুই দফা দাবি হচ্ছে:

১. এই সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর নীতিমালা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: হাদীর স্মরণে ঢাবিতে শুরু হচ্ছে ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’

২. অর্থবিভাগের সঙ্গে কথা বলে ঠিক কবে থেকে শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি চালু হবে তা ঘোষণা করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধিকারের সভাপতি এ. কে. এম. রাকিব বলেন, "আমরা গত বুধবার সম্পূরক বৃত্তি ও জকসুর রোডম্যাপের দাবিতে ২ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি কিন্তু প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া পাইনি। তারা ভাবছে আমরা হয়তো হাল ছেড়ে দিবো কিন্তু তারা জানে না, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা যেকোনো সময় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।"

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, "সম্পূরক বৃত্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, জকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে জকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।"

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী তানজিল বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি আন্দোলন করছে। কিন্তু আমরা এতকিছু করার পরও আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। জবি প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, যার কারণে তারা শিক্ষার্থীদের আস্থা হারাচ্ছে।"

উল্লেখ্য, গত ১৪-১৬ মে ৩ দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যমুনা অভিমুখে লংমার্চ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে ৩ দফার মধ্যে একটি দফা ছিল সম্পূরক বৃত্তি, যা চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নীতিমালা এখনো পাস হয়নি। এই দুই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন।