জেনেভায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আজ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এ আলোচনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)–এর আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন: কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ‘হাতের নাগালে’: আরাঘচি

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, এসব বিমান কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। পাশাপাশি  ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধবিমান রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে প্রায় ২৭০টি সি–১৭ ও সি–৫ পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এই বিমানবহর গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ফ্লাইটে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আনুমানিক ৭৫টি কেসি–৪৬ ও কেসি–১৩৫ কৌশলগত ট্যাংকার বিমান সেন্টকমের আওতায় রয়েছে বা সেখানে যাওয়ার পথে।

আরও পড়ুন: বেঙ্গালুরু থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জন আটক

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোতায়েনকৃত বিমানের প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ/এ–১৮ই/এফ, ৩৬টি এফ–১৫ই, ৪৮টি এফ–১৬সি/সিজে/সিএম এবং ৪২টি এফ–৩৫এ/সি। বাকি ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত ভূমিকার বিমানের মধ্যে রয়েছে ইএ–১৮জি গ্রাউলার, এ–১০সি থান্ডারবোল্ট, ই–১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশন নোড (বিএসিএন) এবং ই–৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস।

তবে গত বছরের জুনে ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ব্যবহৃত বি–২ বোমারু বিমানের নতুন কোনো গতিবিধি শনাক্ত হয়নি বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশের পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সম্ভাব্য অভিযানে জড়িয়ে পড়তে পারে। ইসরায়েলের হাতে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এফ–১৫, এফ–১৬ ও এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা অভিযানে অংশ নিলে সম্মিলিত আকাশশক্তি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলেও প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ সবসময় কূটনীতি; তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারে তিনি প্রস্তুত।

এই পরিস্থিতিতে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরান একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।