সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জুলাই যোদ্ধাদের ‘চরমপন্থি’ আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে জুলাই ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন

Sanchoy Biswas
শাহরিয়ার ইসলাম
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ও জুলাই যোদ্ধাদের ‘চরমপন্থি গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম জুলাই ঐক্য। সংগঠনটির দাবি, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের বক্তব্য পররাষ্ট্রনীতির সীমা লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে প্রেস রিলিজ পাঠ করেন এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে পূর্বঘোষিত ও শান্তিপূর্ণ ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচিকে ভারতের পক্ষ থেকে ‘ঢাকায় কিছু চরমপন্থি গোষ্ঠীর আন্দোলন’ বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আরও পড়ুন: এসএসসি ২০২৬ এর প্রবেশপত্র বিতরণের তারিখ ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ মার্চটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে বাড্ডা এলাকায় অবস্থানে রূপ নেয়। এতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সংগঠনটির দাবি, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে চরমপন্থি আখ্যা দিয়ে ভারত নিজেদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছে।

জুলাই ঐক্যের অভিযোগ, অতীতেও বাংলাদেশের নাগরিকদের চরমপন্থি ও জঙ্গি আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়নের নজির রয়েছে এবং একই কৌশলে জুলাই যোদ্ধাদের ‘হত্যাযোগ্য’ করার অপচেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর কথাও তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: চবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবীবের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সময় ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী ভারতীয় হাইকমিশনারকে পারসোনা নন গ্রাটা ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

জুলাই ঐক্য জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি দিল্লির কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহিতা না চায়, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্চ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ভারতের মন্তব্যের প্রতিবাদে আগামী ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে সংগঠনটি জানায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। কোনো ধরনের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নতুন বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।