১৫ মার্চ ডেডলাইন, রিটার্ন জমা পড়লেও কার্যকর অডিট ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান হবে কি না প্রশ্ন

এমপি প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় যাচাই-বাছাই নিয়ে সংশয়

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৮ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে হলফনামাসহ রিটার্ন জমা না দিলে সর্বোচ্চ সাত বছর এবং সর্বনিম্ন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে জমা পড়া হিসাবের কার্যকর যাচাই-বাছাই ও মাঠপর্যায়ে বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার বিষয়ে স্পষ্ট কাঠামো না থাকায় সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ীদের নামসহ সরকারি গেজেট প্রকাশের পর থেকে ৩০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হয়েছে। সে হিসাবে ১৫ মার্চই রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী ফরম-২২, ২২ক, ২২খ ও ২২গ-তে ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিবরণ, তহবিলের উৎস এবং হলফনামা যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এর অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ইসি সচিবালয়েও পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী এবার ব্যয়সীমা নির্ধারণে জনপ্রতি ১০ টাকা হারে ব্যয়ের সুযোগ যুক্ত হয়েছে। প্রতিটি আসনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ভিত্তি থাকলেও আড়াই লাখের বেশি ভোটার থাকলে সেই অনুপাতে ব্যয়সীমা বাড়ে। তবে আড়াই লাখের কম ভোটার থাকা আসনে ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের সুযোগ নেই।

ইসি সচিবের বক্তব্য: 

আরও পড়ুন: শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে আজ

রিটার্ন যাচাই-বাছাইয়ে আলাদা কমিটি গঠন হবে কি না—এ প্রশ্নে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,

“আমরা আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই যেন নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেয়, সে বিষয়ে তাগাদা দিচ্ছি। জমা দেওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে এখনো কোনো আলাদা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন,

“আইনে যে বাধ্যবাধকতা ও শাস্তির বিধান রয়েছে, তা কার্যকর থাকবে। রিটার্ন গ্রহণের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নির্বাচনী ব্যয় জমা সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক: 

আইন অনুযায়ী বিজয়ী, পরাজিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত—সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্যই ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যয় না হলেও তা নির্ধারিত ফরমে ‘শূন্য’ উল্লেখ করে জমা দিতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব নথি গ্রহণ করে ২৫ মার্চের মধ্যে কমিশনে পাঠাবেন এবং বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এ জন্য কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই।

অনুচ্ছেদ ৪৪গ ও ৭৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল না করা বা ভ্রান্ত তথ্য প্রদান শাস্তিযোগ্য অপরাধ; দোষী প্রার্থী অনধিক সাত বছর ও অন্যূন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অনুচ্ছেদ ৪৪ঘ অনুযায়ী ব্যয়ের রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট দলিল এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে এবং অফিস চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রশ্ন রয়ে গেল? 

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণার ব্যয় ঘোষিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি ছিল—এমন অভিযোগ উঠে এলেও কার্যকর অডিট ও মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের ঘাটতি ছিল। ফলে এবার রিটার্ন জমা পড়ার পর তা কতটা গভীরভাবে পরীক্ষা হবে, ব্যাংক লেনদেন ও তহবিলের উৎস মিলিয়ে দেখা হবে কি না—এসব প্রশ্ন এখন আলোচনায়।

আইনের কঠোর শাস্তির বিধান সামনে রেখে ১৫ মার্চের ডেডলাইন ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে চাপ বাড়লেও, রিটার্ন জমার পর বাস্তবসম্মত ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা—এখনই ইসির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন ।