বাংলাবাজারের সিনিয়র রিপোর্টার লিংকন যুগ্ম সম্পাদক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান সিইসির
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও সংঘাত এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে বহু হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষ হয়েছে। এবার রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে রক্তপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে—এমন প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনের। অনুষ্ঠানে বাংলাবাজারের সিনিয়র রিপোর্টার এম এম লিংকন যুগ্ম সম্পাদক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরআগের কমিটিতে তিনি প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের দুই আসনের ভোট-জটিলতা নিষ্পত্তিতে শুনানি ৯ জুন
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। একই পরিবারেও প্রার্থী দাঁড়ায়। অতীতে দেখা গেছে, এসব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বসে একটা সমঝোতায় আসতে পারে, তাহলে রক্তপাতহীন নির্বাচন সম্ভব।”
তিনি জানান, যেহেতু এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না, তাই নির্বাচনকে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নের ঘোষণা দিতে শুরু করেছে, যা কমিশনের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ইসির
‘নির্বাচন একার পক্ষে সম্ভব নয়’:
এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, কোনো নির্বাচনই রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। নির্বাচন পরিচালনায় সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও ভোটার—সবাই গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন একা এটা করতে পারবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর শতভাগ সহযোগিতা প্রয়োজন।”
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য শুধু একটি নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং দেশে একটি টেকসই নির্বাচনি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। “বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই,” বলেন তিনি।
‘শুধু প্রশংসা নয়, সমালোচনাও প্রয়োজন’:
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভুলত্রুটি থাকলে সাংবাদিকদের তা তুলে ধরা উচিত। “শুধু প্রশংসা করলে আমরা ভুল করতে থাকব। ভুল হলে আপনারা তা তুলে ধরবেন, আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নির্বাচনবিষয়ক বিশ্লেষণ ও পরামর্শ থেকে কমিশন নানা ধারণা নিয়েছে। বিশেষ করে আরএফইডির সদস্যদের লেখা ও মতামত কমিশনের প্রস্তুতিতে সহায়ক হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘সরকারের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন অসম্ভব’
বক্তব্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন এবং আগের অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। “কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা আমাদের কাজ করতে দিয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য।
নারী ভোটার ও সচেতনতা প্রসঙ্গ:
নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক ও ধর্মীয় বাধা দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় এখনো নারী ভোটারদের ছবি তোলা বা পরিচয় যাচাই নিয়ে আপত্তি রয়েছে, যার ফলে অনেক নারী ভোটার তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
‘আরএফইডি কমিশনের অংশের মতো কাজ করেছে’
আরএফইডির ভূমিকার প্রশংসা করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংগঠনটি নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকেও গণমাধ্যমে তুলে ধরতে আরএফইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আরএফইডিকে আমরা পর মনে করি না। তারা নির্বাচন কমিশনেরই অংশের মতো কাজ করেছে।”
অনুষ্ঠানে আরএফইডির নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সিইসি।





