মুসলিম ছাত্রদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলামিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে: কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ
ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ১৮ মে ২০২৬ সকালে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবিধান, শিক্ষা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় শিক্ষার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিবেচনায় শিক্ষা ও সাংবিধানিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সংবাদ প্রকাশে বাঁধা, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিককে মারধর
লিখিত বক্তব্যে সংবিধানের ৮(১), ১৭ এবং ২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি জানানো হয়। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, শিক্ষানীতি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক বিধানগুলোতে ইসলামী মূল্যবোধ ও শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষা কাঠামোতে ধর্মীয় শিক্ষার বাধ্যবাধকতা না থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা শিক্ষানীতি ও কারিকুলামে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: স্কাউটে রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন কুবি শিক্ষার্থী কিশোর কুমার
সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা, বিশেষায়িত মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আরও সুসংহত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা কমিশন ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডে কওমি আলেমদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, কওমি শিক্ষার অবদান শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ শিক্ষাধারার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেন।
সংগঠনটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন, ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, শরীয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সামাজিক নীতি প্রণয়নের দাবিও জানায়।
এছাড়া ধর্মীয় অবমাননা রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দান-অনুদানে কর ছাড় এবং কওমি মাদরাসাসমূহে সরকারি সেবা সহজীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সমাজে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় মক্তব ও মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষানীতি ও সাংবিধানিক কাঠামোতে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।





