সংবাদ প্রকাশে বাঁধা, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিককে মারধর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৯ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা সুপরিচিত থাকলেও, এবার একই পথে যেন হাঁটছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক ‘বাংলা বাজার’ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো. সাবিত বিন নাছিমের ওপর সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের নেতৃত্বে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর বরাবর দেওয়া হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ। ভুক্তভোগী দৈনিক ‘বাংলা বাজার’ পত্রিকার সাংবাদিক মো. সাবিত বিন নাছিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর বরাবর অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

আরও পড়ুন: স্কাউটে রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন কুবি শিক্ষার্থী কিশোর কুমার

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, ১৭ মে রাত আনুমানিক ৮টার পর শাহ আমানত হলের সামনে একটি উত্তেজনাপূর্ণ গোলযোগ দেখে পেশাদারিত্বের দায়িত্ব থেকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভিডিও এবং লাইভ ধারণ করার সময়, ঘটনায় উপস্থিত অভিযুক্ত চবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের গলায় আইডি কার্ড থাকা অবস্থায় তার সাংবাদিক পরিচয় জানার পরেও সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন এবং তাকে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর ওপর চড়াও হয়ে অতর্কিত হামলা করেন। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোপূর্বেও সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের হুমকির অভিযোগসহ আরও অভিযোগে সংশ্লিষ্টতার সংবাদ রয়েছে।

হামলার পর আহত মো. সাবিত বিন নাছিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে “H/O Assault” অর্থাৎ “History of Assault” উল্লেখ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: মুসলিম ছাত্রদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলামিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে: কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. সাবিত বিন নাছিম বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে হামলার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি আমার শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে শঙ্কিত, আতঙ্কিত এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে বলে আমি আশঙ্কিত।” তিনি অভিযোগে ক্যাম্পাসে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িত সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা এটা (অভিযোগ) হাতে পেয়েছি, আগামীকাল আমরা বিষয়টি উভয়পক্ষকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো।”

এ বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, কেউ যদি দলের নাম দিয়ে দলের পদবি ব্যবহার করে শৃঙ্খলা পরিপন্থী অন্যায় করে থাকে, সেটার বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, “ও (মো. সাবিত বিন নাছিম) যে আহত হয়েছে বলতেছে এটা টোটালি একটা হাস্যকর। তিনি আরও বলেন, সে এখানে গুজব ক্রিয়েট করবে, সেজন্য বলেছি দেখেন ঘটনাটা আপনি পলিটিক্যাল ইস্যু করিয়েন না ভাই করলে কিন্তু আমি মানহানির মামলা দিব। লাইফ চলাকালে বলছি আমি জিনিসটা কারণ সে একাধিকবার এর আগেও বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে।”