এপস্টেইন প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করলেন জয়া আহসান

Any Akter
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অভিনেত্রী জয়া আহসান বরাবরই ভিন্নধর্মী কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবার নিজের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওসিডি’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জীবনের এক অন্য অধ্যায় এবং সামাজিক দায়িত্বের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জয়া জানিয়েছেন, শিশুদের কেন্দ্র করে যে কোনো কাজে দায়িত্বের ভার কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

জয়া বলেন, অভিনয়ে নিখুঁত হওয়ার এক অদ্ভুত নেশা তার মধ্যে কাজ করে। তিনি বলেন, “নিখুঁত অভিনয় নিয়ে আমার ‘ওসিডি’ রয়েছে। খালি মনে হয় সব অভিনয় যেন এক রকম হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ দিতে গিয়ে মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে যাই, মানসিক চাপের চূড়ান্তে পৌঁছে যাই। নিজেকে বলি আমি তো মানুষ, কিন্তু মন মানে না।”

আরও পড়ুন: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন নিয়ামুল মুক্তা, ‘রক্তজবা’ নিয়ে বিতর্ক

ছবিতে জয়া এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা শৈশবে যৌন শোষণের শিকার হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয় ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে জয়াকে পিডোফিলিয়া নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “যেখানে শিশুরা জড়িয়ে থাকে, সেখানে দায়িত্বটা অনেক বেড়ে যায়। শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বাংলা সিনেমাতে এই পিডোফিলিয়া নিয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি।”

আরও পড়ুন: তরুণ নির্মাতা সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পির বাবা ইন্তেকাল করেছেন

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গে জয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা তো একটা মানসিক ব্যাধি। একটা বাচ্চা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে মায়া জন্মায়, স্নেহ জন্মায়। কিন্তু কিছু মানুষের শিশুদের দেখলে যৌন আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। তারা ওই শরীরের ভিতরটা দেখতে চায়। আসলে এটা তো একটা অসুস্থতা।”

জয়া ব্যক্তিগত জীবনে সন্তান দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি চাইলেই সন্তান দত্তক নিতে পারি, তার জন্য জন্ম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বড় বাধা হলো পরিবেশ। একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য আগে একটি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে। অথচ মানুষ এখন শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত।”

জয়ার এই অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা শিশুদের নিরাপত্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অভিনয়ের প্রতি তার নিবেদনকে আরও প্রাসঙ্গিক ও মানবিকভাবে তুলে ধরছে।