তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর: এরদোয়ান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:১১ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে জোটটি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে এবং মিসরের অন্তর্ভুক্তি তার সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর একটি।

আল জাজিরার আরবি চ্যানেলের ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার সন্ধ্যায় প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: তিন ইরানি পাইলটকে আটকের দাবি প্রত্যাখ্যান কাতারের

এরদোয়ান বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ বাইরের কোনো পক্ষের হামলার শিকার হলে অন্য সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার ভাষায়, চুক্তিটি বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছে।

‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গত শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে স্বাক্ষরিত হয়। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প

চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অনেক বিশ্লেষক ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য কোনো জোট বা নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান হরমুজ প্রণালি, সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াকে তুরস্কের জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা কারও স্বার্থেই নয়। আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে যাবে না।

সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে জানিয়ে এরদোয়ান দেশটি সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান। সিরিয়ার কুর্দিরাও শান্তি ও স্থিতিশীলতার অংশীদার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অঞ্চলটির কুর্দি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার এবং তাদের অধিকার রক্ষায় তুরস্ক কাজ করবে বলেও জানান।

গাজা প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক গাজাকে একা ছেড়ে যেতে পারে না এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তার দাবি, হামাস তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আন্তরিকভাবে পালন করছে, অন্যদিকে ইসরায়েল এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের সময় তিনি লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন এরদোয়ান।

সুদানের প্রতিও তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। দেশটির সার্বভৌমত্ব পরিষদের প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো বলেও উল্লেখ করেন। লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্থিতিশীল এবং দেশটিকেও তুরস্ক পরিত্যাগ করবে না বলে জানান এরদোয়ান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়েও কথা বলেন তিনি। এরদোয়ানের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে সদস্য হিসেবে নিতে আগ্রহী নয়। এ কারণে ইইউর সদস্য হওয়া এখন আর আঙ্কারার অগ্রাধিকার নয় এবং এর ফলে শেষ পর্যন্ত ইউরোপই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও এরদোয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে বহুজাতিক এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, এস-৪০০ ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গোপন প্রযুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

তবে গত মাসে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময় এরদোয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তার প্রশাসন এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপিত CAATSA নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখনো মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধিতা রয়েছে। ২০২০ সালের একটি আইনে বলা হয়েছে, তুরস্ক যতদিন এস-৪০০ ব্যবস্থা রাখবে, ততদিন পেন্টাগন দেশটির কাছে এফ-৩৫ হস্তান্তর করতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা