ইয়েমেনের আল-মাখায় হুতিদের হামলায় নিহত ৪

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী আল-মাখায় (মোখা) হুতিদের হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) হুতিরা আল-মাখায় ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরানপন্থি এই গোষ্ঠী ও সৌদি আরবসমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ হামলা চালানো হলো।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প

ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের বেসামরিক অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। প্রাথমিকভাবে চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ইয়েমেন সরকারের এক সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২

হুতিরা জানিয়েছে, আল-মাখায় সৌদি সমর্থিত বাহিনী ও ‘ভাড়াটে যোদ্ধাদের’ অবস্থান, অস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি নৌকা ও অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এদিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, সৌদি আরবের নজরান শহরে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা।

হুতিদের সামরিক সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমায় সৌদি সামরিক বিমান প্রবেশের প্রতিক্রিয়ায় ওই হামলা চালানো হয়। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার হুতিরা জানিয়েছিল, সৌদি আরবের জাজানে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে তারা।

ইয়েমেনে নতুন করে সহিংসতা বাড়ার মধ্যে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনাও বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতে হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্রন্ট হিসেবে সক্রিয় থাকায় ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টো ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নতুন একটি বাণিজ্যিক করিডোর চালু করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা