ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৯ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প

ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনটি পরাঘাত অনুভূত হয়। এগুলোর মাত্রা ছিল ৫.৯, ৫.৬ ও ৬.১।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, মাউমেরে বন্দরে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনের আল-মাখায় হুতিদের হামলায় নিহত ৪

ভূমিকম্পের পর স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে মাউমেরে বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। মাউমেরে অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে গিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপিবির কর্মকর্তা আবদুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল, দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণের দ্বীপগুলো এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কমপাস টিভিকে তিনি বলেন, বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে সরে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে অথবা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটারের বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা কোনো অঞ্চল সুনামির ঝুঁকিতে নেই।

ইউএসজিএস-এর হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপের পাঁচ লাখের বেশি মানুষ খুব শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভব করে থাকতে পারেন। এছাড়া আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী পরাঘাতের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২৭ কোটির বেশি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেস দ্বীপে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।


সূত্র: আল-জাজিরা