গ্যাসের দাবিতে চট্টগ্রামে সিএনজি চালকদের সড়ক অবরোধ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সিএনজি গ্যাস না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। গ্যাস সংকটের কারণে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশাচালক। তাদের অবরোধের কারণে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ভারতীয় ইয়াবাসহ আটক ১

ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনেও গ্যাস নেওয়ার জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

বিক্ষুব্ধ চালকদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান করেও তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও স্টেশন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে রুটি খেতে গিয়ে গলায় খাবার আটকে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

শাহিন নামে এক চালক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। কখন গ্যাস পাব, সেটাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?’

মনু মিয়াজি নামে আরেক চালক বলেন, ‘দুই দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারিনি। কোনো আয় নেই। অথচ গাড়ির জমা ও সংসারের খরচ ঠিকই দিতে হচ্ছে। গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও যদি গ্যাস না পাই, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’

আরেক বিক্ষুব্ধ চালক মুজিবুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের সব ফিলিং স্টেশনেই একই অবস্থা। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ যদি সংকটের সমাধান করতে না পারে, তাহলে রাস্তায় নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।’

ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও কিছু করার নেই।’

চালকরা জানান, গ্যাস সংকটে শুধু তাদের আয়-রোজগারই বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছে। তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি নন বিক্ষুব্ধ চালকরা।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম রয়েছে। চালকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।