বাতিল প্রার্থী কীভাবে চূড়ান্ত নির্বাচিত? ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে প্রশ্ন
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের মশিউর ভূঁইয়ার নাম প্রকাশিত বিভিন্ন তালিকায় পরস্পরবিরোধীভাবে থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য প্রকাশিত বাতিল প্রার্থীদের তালিকায় মশিউর ভূঁইয়ার নাম রয়েছে। অন্যদিকে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫
তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত চূড়ান্ত নির্বাচিত তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কিংবা উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য না থাকলেও কীভাবে তিনি চূড়ান্ত নির্বাচিত তালিকায় স্থান পেলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার নির্ধারিত ধাপ অনুসরণ করা হয়ে থাকলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকায় নাম না থাকা একজন প্রার্থী পরবর্তী সময়ে কীভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাতিল তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণও পরিষ্কার হওয়া দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি—এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে যারা কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁদের ভাইভা নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তবে কর্মকর্তার এ বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকায় যার নাম নেই এবং বাতিল তালিকায় যার নাম রয়েছে, তাঁকে কীভাবে ভাইভার জন্য বিবেচনা করা হলো? লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা বাতিল প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিধি, নীতিমালা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে প্রকাশিত তালিকার মধ্যে এমন অসঙ্গতি থাকলে পুরো বাছাই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই বিষয়টি তদন্ত করে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, প্রার্থী বাছাই, ভাইভা এবং চূড়ান্ত মনোনয়নের প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠেছে— নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা ও তালিকাভুক্তির ধাপ অনুসরণ করা হলে মশিউর ভূঁইয়ার নাম বাতিল তালিকা থেকে চূড়ান্ত নির্বাচিত তালিকায় কীভাবে এলো? বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।





