রাশিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বড় নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষর করা নতুন আইনে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ দেশটির তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে আইনটি তৈরি করতে এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে তিনি আইনটি প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে গ্রাহামের মৃত্যুর পরও আইনটি কংগ্রেসের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হামলায় বহু হুথি যোদ্ধা নিহত
নতুন আইনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও ধনকুবেরদের পাশাপাশি বিভিন্ন রুশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ট্যাংকারগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
রুশ তেল-গ্যাসের ক্রেতাদের ওপর শুল্কের সুযোগ
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদির ২৬ দফা বিমান হামলা, দাবি হুথিদের
আইনটির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হলো—রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে। ফলে নতুন আইনের প্রভাব দেশ দুটির ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আইনটি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে এসব দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে যাচ্ছে না। বরং কোন দেশের ওপর এবং কী হারে শুল্ক আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কংগ্রেসে দুই দলের সমর্থন
আইনটি মার্কিন কংগ্রেসে বিরল দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়েছে। সিনেটে এটি ৮৬-১১ ভোটে এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দিয়ে আইনটির পক্ষে অবস্থান নেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কংগ্রেসে পাস হওয়া এটি অন্যতম বড় আইন।
আইনটির সমর্থকদের বক্তব্য, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আইনটিকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শুল্ক নিয়ে আপত্তি ডেমোক্র্যাটদের একাংশের
তবে সব ডেমোক্র্যাট আইনটির পক্ষে ছিলেন না। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস আইনটির বিরোধিতা করেন। তার আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তিনি নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার মধ্যেও বেশ কিছু ‘ফাঁকফোকর’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাবের মুখে থাকা ভারত জানিয়েছে, দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের সফরের আগে নতুন পদক্ষেপ
ট্রাম্পের এই আইন স্বাক্ষরের সময়টিও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় এক সপ্তাহ পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে রুশ জ্বালানি আমদানির সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য শুল্কের ক্ষমতা দেওয়ায় নতুন আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা





