বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা জাতিসংঘের
বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের বীরত্ব, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতিসংঘ। ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় সংস্থাটি চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি সদস্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের প্রশংসা করেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তর জানায়, চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে কার্যকর শান্তিরক্ষা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও রাজনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে অভিবাসন আতঙ্ক: বাংলাদেশ সীমান্তে শত শত মানুষের ভিড়
বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, শান্তিরক্ষীদের নিরলস দায়িত্ব পালন বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল
তিনি বলেন, নিজ দেশ থেকে বহু দূরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাজ করে শান্তিরক্ষীরা সংঘাত প্রশমন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
মহাসচিব অতীত ও বর্তমান সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, শুধু গত বছরই দায়িত্ব পালনকালে ৫৯ জন শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।
গুতেরেস বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো প্রাণহানি কাম্য নয়।” তিনি শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ মহাসচিব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, “শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের অব্যাহত সমর্থন থাকা উচিত।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে শান্তিরক্ষীরা প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে।
এছাড়া ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও প্রদান করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার।





