বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও করল উগ্রবাদী হিন্দুরা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ন, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:৩১ অপরাহ্ন, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনগুলোর সহিংস বিক্ষোভ, ঘেরাও ও বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (তারিখ অনুযায়ী) আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভ করে একাধিক উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন। গুয়াহাটির একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের তথাকথিত ‘হিন্দু নির্যাতন’-এর অভিযোগ তুলে আসামের হিন্দু যুব ছাত্র পরিষদ, রাষ্ট্রীয় হিন্দু ফ্রন্ট ও হিন্দু ঐক্য মঞ্চের ব্যানারে কয়েকশ বিক্ষোভকারী গেরুয়া পতাকা হাতে বাংলাদেশ মিশনে প্রবেশের চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন: নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র

বিক্ষোভকারীরা ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র’ গঠন ও বাংলাদেশবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ মিশনের কাছে পৌঁছানোর আগেই তাদের বাধা দেয়। পরে তারা রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করে।

সমাবেশে উগ্রবাদী নেতারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারতের মোদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কথিত হিন্দু নির্যাতনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করে তার কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। সমাবেশ শেষে এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মিশনে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ভারত

এর আগে গত ২০ নভেম্বর রাতে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় উগ্রবাদীরা বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকিও দেয় বলে জানা যায়। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলে এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে।

পরবর্তীতে মুম্বাই, কলকাতা ও আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে ঘিরেও সহিংসতা চালানো হয়। শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এর জেরে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এসব ঘটনার কারণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।