ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি, ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:১২ পূর্বাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে টানা সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরানে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।

শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ ঘোষণা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আন্দোলনে জড়িতদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন: আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি: ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ, বাংলাদেশিসহ রোহিঙ্গা রয়েছেন

ইরানের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে, তাহলে সেই গোষ্ঠীর সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অপরাধের একমাত্র শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে সংবিধানে।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। বছরের পর বছর ধরে ইরানি রিয়েলের লাগাতার অবমূল্যায়নের ফলে দেশটি তীব্র মূল্যস্ফীতির কবলে পড়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে নববর্ষ উৎসবে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৫৪

জাতীয় মুদ্রার এই চরম দুরবস্থার কারণে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ক্রমেই বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। একইসঙ্গে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

শনিবার থেকে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মাঠে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসির সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।