ইরানের প্রশংসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসায় দেশটির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই বিরল ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত রয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমি অত্যন্ত সম্মান জানাই।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে এক পরিবারের ১৪ জন নিহত, আহত ৯
রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ইরানের এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ইরানে ৮০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যা এখন আর হচ্ছে না। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ!”
ইরানে চলমান বিক্ষোভের সময় দেশটির সরকার যদি গণহারে মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হামলা চালাতে পারে— এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক দিন পরই ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্য সামনে এলো। যদিও বর্তমানে ইরানে সেই বিক্ষোভের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ইরানে চলমান আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিরতি দেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত কমে এসেছে।
ইরানের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের তেমন সামঞ্জস্য না থাকলেও, তার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে— দেশটিতে মার্কিন হামলা আসন্ন বলে তিনি আগে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেখান থেকে এখন তিনি সরে আসছেন।
এর আগে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” শুক্রবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দেখা যাক কী হয়।
আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চাপে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে এসেছেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কেউ আমাকে বোঝায়নি। আমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তারা কাউকে ফাঁসি দেয়নি। এই সিদ্ধান্ত আমার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
তবে ইরান সরকারের কার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু জানাননি। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, একদিকে তিনি ইরানের প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে দেশটিতে কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর নড়বড়ে অর্থনীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরবর্তীতে ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে সেই অস্থিরতা অনেকটাই থেমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী তেহরানে নতুন কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও নতুন করে সহিংসতার খবর দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যা এখনও বাড়ছে।
এদিকে ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবেন না।





