ইরানের ওপর নতুন হামলার চিন্তায় ট্রাম্প, বাড়ছে উত্তেজনা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৩ পূর্বাহ্ন, ১২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩০ অপরাহ্ন, ১২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় দেশটির ওপর পুনরায় হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মঙ্গলবার (১২ মে) একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে ট্রাম্পকে হামলার বিষয়ে আরও বেশি কঠোর অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের: নতুন আগ্রাসনে কঠোর জবাবের প্রস্তুতি

সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরান-এর অবস্থানে হতাশ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তিনি ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছেন। ট্রাম্পের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে দেশটির নেতৃত্ব পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, ইরান আদৌ আলোচনায় আন্তরিক কি না।

আরও পড়ুন: ইরান-সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার পক্ষে মত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। তাদের মতে, হামলা হলে ইরান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পরে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হবে। তবে অপর একটি পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের সন্দেহ, ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির বিষয়টি পাকিস্তান যথাযথভাবে ইরানের কাছে তুলে ধরছে কি না।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তার অভিযোগ, ইরান যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে যেসব ইতিবাচক বার্তা দেয়, পাকিস্তান সেগুলোই কেবল ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র সামনে আসছে না।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, ট্রাম্প বর্তমান আলোচনা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। একই সঙ্গে এটিই কূটনীতির শেষ সুযোগ বলেও সতর্ক করা হয়েছে। যদিও ইরান এসব সতর্কতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।