দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুন, বাংলাদেশি দুই পরিবারের ৯ সদস্য আহত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশি দুই পরিবারের অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
তবে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও হাইকমিশন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) সকালে মালভিয়া নগরের পাঁচতলা ‘মিকাসা ইন’ হোটেলের বেজমেন্টে থাকা একটি রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া আগুন দ্রুত ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ইরানের
ঘটনার সময় হোটেলের বেশিরভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে অনেকেই আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়েন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি নাগরিক, যাদের অনেকেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি দুই পরিবারের মোট ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দগ্ধ ও আহত রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এ কারণে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি হতাহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং বিদেশি নাগরিকদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।





