লোহিত সাগরে সৌদির দুই তেলবাহী জাহাজে হুথিদে হামলা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪০ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪০ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী (আনসারুল্লাহ) বুধবার লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘এনসেলিয়া’ এবং লায়লা’  নামের দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত নৌ অবরোধ অমান্য করায় এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

তিনি জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে জাহাজে আগুন লাগে। এছাড়া হুথিদের দাবি, তাদের অভিযানের কারণে প্রায় ১০টি জাহাজ গন্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এনসেলিয়া জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নীতির লঙ্ঘন।

আরও পড়ুন: ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। এতে জাহাজে আগুন লাগে এবং নাবিকরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।

গত ২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এর আগে ইয়েমেন সরকার সানার বিমানবন্দরে ইরানের একটি বিমান অবতরণ ঠেকাতে হামলা চালায়। এর জবাবে হুথিরা ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে অবরোধের ঘোষণা দেয়।

হুথিদের অভিযোগ, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরে স্থল, নৌ ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে দেশটির সম্পদ লুট করেছে। তবে রিয়াদ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হুথি-নিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানবন্দরের অবরোধ তুলে নেওয়াই এই নৌ অবরোধের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৌদি আরব লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে হুথিদের হামলায় সেই রুটও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে ২০২৪ সালে প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট তেল পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবও অচল হয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা