যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:০০ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার অতিক্রম করেছে।

বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছায়। পরে তা কিছুটা কমে ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ শতাংশের বেশি বেশি।

আরও পড়ুন: লোহিত সাগরে সৌদির দুই তেলবাহী জাহাজে হুথিদে হামলা

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার হুথিদের হুমকির কারণে তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

এর আগে এপ্রিল মাসে সংঘাতের সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। পরে জুলাইয়ের শুরুতে তা কমে ৭১ ডলারে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১১তম দিনের হামলায় ইরানের বিমানঘাঁটি ও ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার দাবি, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু না হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছেন, এখন পর্যন্ত জরুরি তেলের মজুত ব্যবহার এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিকল্প রুটে তেল রপ্তানির কারণে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।

আইইএর তথ্যমতে, সদস্য দেশগুলো প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি তেল ও তেলজাত পণ্য বাজারে ছেড়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো রপ্তানি বাড়িয়েছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনা কমিয়েছে।

তবে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ডিজেল ও পেট্রোলসহ পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে সরবরাহ সংকট বাড়ছে। এছাড়া শীত মৌসুমের আগে ইউরোপে গ্যাসের মজুত বাড়ানোর প্রস্তুতির কারণে বৈশ্বিক গ্যাস বাজারেও চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইইএ।

 ‍সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান