রায়পুরে প্রভাবশালী চক্রের থাবায় অবরুদ্ধ ৫০ জন: রাস্তা কেটে বিলের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আখন বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা কেটে বিলের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার এবং দেওয়াল নির্মাণ করে পথ অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে ওই বাড়ির প্রায় ১০টি পরিবারের ৫০ জন সদস্য সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে অত্যন্ত অমানবিক ও কষ্টকর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আখন বাড়ির বাসিন্দারা যে রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করতেন, সেটি কেটে বিলের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন মিজান হাওলাদার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। অন্যদিকে, একই রাস্তার ওপর দেওয়াল নির্মাণ করে পথটি চরমভাবে সংকুচিত (চিকন) করে ফেলেছেন বাবুল হাওলাদার নামে অপর এক ব্যক্তি। যার ফলে গত ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত এই রাস্তাটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর ১৪ বছর পরও অম্লান হুমায়ূন আহমেদ, নুহাশপল্লীতে ভক্ত-স্বজনের শ্রদ্ধাঞ্জলি
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে একটি রিকশা কিংবা মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মন্নান, বাচ্চু, আরিফ, শামছু, শাকিল, শাহিনুর বেগম ও হরুচ্ছা বেগম ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:
আরও পড়ুন: আশুলিয়া-সাভারে ডিবির অভিযানে ১ হাজার লিটার চোলাইমদ ও ১০০ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
"আমাদের গত ৪০ বছরের পুরনো রাস্তাটি কেটে প্রভাবশালী মিজান হাওলাদার বিলের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন। আর বাবুল হাওলাদার সেখানে দেওয়াল তুলে রাস্তাটি একদম বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমাদের বাড়ির কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো পথ নেই। যদি আল্লাহ না করুক কেউ মারা যায়, তবে তার লাশ বের করার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট রাখা হয়নি। আমরা এখন নিজেদের বাড়িতেই বন্দি জীবন পার করছি।"
তারা আরও জানান, এই অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে বৃদ্ধ, নারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুল হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অপর প্রধান অভিযুক্ত মিজান হাওলাদার বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান না করায় এবং তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এবং চলাচলের রাস্তাটি পুনুদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





