ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নয়: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে দেশটির সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর করা হবে না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পৃথিবী বদলে দিতে পারে তনিমার গবেষণা, বলছে সায়েন্টিফিক আমেরিকান
ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবকে অবশ্যই তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, “এটি করতে হলে তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে। এটি খুবই সফল একটি উদ্যোগ। এখন সময় এসেছে সৌদি আরবও এতে যোগ দিক।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সৌদি আরবকে প্রথমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে, তারপরই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: আরশোলাদের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার, দাবি মেনে নেওয়ার দাবি সিজেপির
শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বিষয়টি আগে আলাদা করে আলোচনা না হলেও, এই শর্তটি শুরু থেকেই সবার জানা ছিল।
এদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের বিষয়ে সৌদি আরব এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে এবং উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কয়েক দশক মেয়াদি বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব, যা এখন মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। তবে ট্রাম্প পরে দাবি করেন, “কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না।”
প্রস্তাবিত এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দেবে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তি জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এই চুক্তির ফলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে না। কারণ, পুরো প্রকল্পের কাজ যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, ফলে ওয়াশিংটনের পর্যাপ্ত নজরদারি থাকবে।





