হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় জাহাজ অচল
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি জাহাজে গুলি চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বিয়ের যাত্রীবাহী রিকশা খালে, নিহত ১২
এ হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। জুলাইয়ে ১৩ দিনের উত্তেজনার পর থেকে হামলা অনেকটাই থেমে আছে। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর আবারও উত্তেজনা বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের একটি কার্গো জাহাজে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আরও পড়ুন: সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও আতেফ নাজিবের মৃত্যুদণ্ড
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ‘গালফ অব ওমান’ দিয়ে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করা হয় এবং এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও জাহাজটির ক্রুরা তা উপেক্ষা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছে সেন্টকম।
হামলায় কোনো ক্রু আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সেন্টকম কিছু জানায়নি। মঙ্গলবারের বিবৃতিতে তারা আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ চলাকালে মার্কিন বাহিনী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বন্ধ করেছে, তিনটি ‘অসহযোগী’ জাহাজ অচল করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছে। জুনের সমঝোতার অংশ হিসেবে এই দুই পদক্ষেপই স্থগিত করা হয়েছিল। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা, ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করা।
তবে সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে ‘৫০ বছরের’ ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে উত্তেজনা আরও বাড়ান। অন্যদিকে, তেহরান আগে থেকেই যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে পুনর্গঠন তহবিলের দাবি জানিয়ে আসছে। জুনের সমঝোতায় এ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল।
সাম্প্রতিক সংঘাত ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের হামলার কারণে আরও জটিল হয়েছে। তারা বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ।
অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক জীবাশ্ম জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করত।
মঙ্গলবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা এবং ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’
তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার বিষয়টি থেকে আলাদা হবে।
দিকে, যুদ্ধ নিয়ে বৃহত্তর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি মঙ্গলবার তেহরানে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।





