রায়পুরে খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে সংঘর্ষ, আহত ১০

Sadek Ali
আব্দুল্লাহ আল মামুন,রায়পুর
প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে কনেপক্ষ ও বরপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রায়পুর পৌরসভার উত্তর কেরোয়া এলাকার মন্ত্রী পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: সারের বিকল্পে ন্যানো প্রযুক্তির মেলবন্ধন

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেলাল হোসেন, শাহিনুর, ইয়াসিন, শাহ আলম পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রায়পুর উপজেলার কলাকোপা এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মুক্তার হোসেনের সঙ্গে উত্তর কেরোয়া এলাকার শাহ আলম পাটওয়ারীর মেয়ে নাজমার তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথিরা খাবার খেতে বসেন। এ সময় খাবার পরিবেশন নিয়ে বরের বড় ভাই অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন: টুঙ্গিপাড়ায় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী শতাধিক পরিবার

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বরও ক্ষুব্ধ হয়ে বাঁশ-লাঠিসোঁটা খুঁজতে শুরু করেন। পরে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বিয়ে বাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

কনের বাবা শাহ আলম পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিয়ে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বরের বড় ভাই খাবার নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের পক্ষের লোকজনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।”

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মামুনুর রশিদ জানান, মারামারির ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপর একজনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেউ আমাদের অবহিত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।