ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ বড় হওয়ার শঙ্কা

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা দিল্লি, ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ইন্টারনেট

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মেট্রো স্টেশন ও রেল যোগাযোগের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে: ককরোচ জনতা পার্টি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজীব চক, নতুন দিল্লি ও কাশ্মীরি গেটসহ মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন দিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে যাতায়াতের কথা থাকা ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

এতসব বিধিনিষেধের মধ্যেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। তিনি জানিয়েছেন, দলের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে যন্তর মন্তরে যাবেন। চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি জনভোগান্তির কথা বলার প্রশাসনিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার আটক বলিউড তারকা ইমরান খান

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে প্রবেশের সড়কগুলোতে সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে; শেষের কয়েকটি অংশ ঝালাই করে আটকে দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় অডিও ধারণের সুবিধাযুক্ত ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েত ঠেকাতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল ও এয়ারবিএনবির মালিকদের কাছে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আন্দোলনকারীদের কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে, আগের কর্মসূচিতে অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ এড়াতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নথিভুক্ত করতে শত শত ফটোগ্রাফারও নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানবিক আচরণ ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 সূত্র: এনডিটিভি