উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাত, ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করার সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার বা ৮৪ মাইল পর্যন্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে ৫৫ আসনে এগিয়ে নেতানিয়াহু

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিমান ও ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের নিচু এলাকাগুলোতে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জোয়ারের পানির চেয়ে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দিয়েছে।

স্থলভাগে প্রবেশের পর ঝড়টির শক্তি কিছুটা কমলেও উপকূলে আঘাত হানার সময় এটি ‘অত্যন্ত তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়া অন্ধ্র প্রদেশের কাকিনাড়া জেলার এক বাসিন্দা পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, কার বাড়িতে কখন পানি ঢুকে পড়বে কিংবা কার ঘর ডুবে যাবে, তা কেউ জানতেন না।

আরও পড়ুন: কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ঘিরে নেপালেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত, তুষারঝড় ও তুষারধসের আশঙ্কায় পর্যটকদের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনের জন্য ট্রেকিং পারমিট দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। নেপালে এ সময়টি জনপ্রিয় হাইকিং মৌসুম। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ জন পর্যটক ট্রেকিংয়ের অনুমতি পেয়ে থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত আগস্টে হিমবাহ ধসের এক বিপর্যয়ের পর নেপাল এখনো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। ওই ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশের আগে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায়ও বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।

ভারতের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝড়ের গতিপথ, বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পরবর্তী সরকারি তথ্যের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।