লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: সড়ক-ফুটপাতে হকারদের দোকান বরাদ্দ কেনো অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
রায় ঘোষণার পর আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে নেওয়া হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনার পর আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলাতেও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আপিলেও বহাল আইভীর জামিন, কারামুক্তিতে নেই আইনি বাধা
তিনি বলেন, মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করা হয়।
পরে তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে কয়েকজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তানজিমের পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।





