রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:০৭ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার, ইতিহাসে প্রথম: আইনমন্ত্রী

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। দুজনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং রায় ঘোষণার আগে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন।

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা, দ্রুত কার্যকরের দাবি

গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত এ নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

এরপর দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না খাতুন। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা সোহেলের বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।