খেয়েই বসে থাকবেন না! মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলেই মিলতে পারে ৫টি বড় স্বাস্থ্য উপকার

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:২৮ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পেট ভরে খাওয়ার পর অনেকেরই ইচ্ছা হয় একটু বিশ্রাম নেওয়ার। কেউ সোফায় বসেন, কেউ আবার বিছানায় গা এলিয়ে দেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরের ১০–১২ মিনিটই হতে পারে আপনার সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টুকু হালকা হাঁটার অভ্যাস হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খাওয়ার পর অল্প সময় হাঁটলে শরীর খাবারকে আরও কার্যকরভাবে হজম করতে পারে এবং বিপাকক্রিয়াও (Metabolism) সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স রয়েছে, তাদের জন্য এই অভ্যাস আরও উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন: কাশি কমাতে লবঙ্গ কতটা কার্যকর? জানুন উপকারিতা ও ব্যবহারের ৪ সহজ উপায়

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

খাবার খাওয়ার পর শরীর কার্বোহাইড্রেটকে গ্লুকোজে রূপান্তর করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর ১০–১২ মিনিট হাঁটলে শরীরের পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার শুরু করে। এতে রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি কমতে পারে এবং ইনসুলিনের ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে কী খাবেন? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

Scientific Reports-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও বলা হয়েছে, খাওয়ার পর হালকা হাঁটা খাবারের পরবর্তী রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে

খাওয়ার পর হালকা হাঁটলে পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয় এবং খাবার পাকস্থলী থেকে অন্ত্রের দিকে সহজে অগ্রসর হতে পারে। ফলে হজম প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং খাবার দীর্ঘ সময় পাকস্থলীতে আটকে থাকার প্রবণতা কমে।

পেট ফাঁপা ও গ্যাসের অস্বস্তি কমাতে পারে

অনেকেই খাওয়ার পর পেট ভারী লাগা বা গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা হাঁটা অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করে। এতে গ্যাস জমার প্রবণতা কমে এবং পেট ফাঁপার অস্বস্তিও হ্রাস পেতে পারে।

অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা কমাতে সহায়ক

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অনেকের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে কিছুক্ষণ ধীরে হাঁটলে খাবার দ্রুত পরিপাকতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যায়, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হতে পারে

হাঁটার সময় শরীরের পেশি শক্তির উৎস হিসেবে গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ফলে সময়ের সঙ্গে শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের দক্ষতা বা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা (Insulin Sensitivity) উন্নত হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কতক্ষণ হাঁটবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের খাবারের মতো দিনের প্রধান খাবারের পর ১০ থেকে ১২ মিনিট ধীর থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটাই যথেষ্ট। তবে শুধু হাঁটলেই হবে না, সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, ডাল, শাকসবজি, বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে যাদের গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী অবস্থা বা চিকিৎসকের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে, তারা খাওয়ার পর ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।