মেঘনা নদীতে মিলল সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:৫৬ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নিখোঁজের একদিন পর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ–পুলিশ।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে গজারিয়ার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চর বলাকিয়া এলাকায় নদীতে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে নৌ–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন করার দাবি

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। তিনি জানান, বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

নৌ-পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, মৃতদেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। দেখে মনে হচ্ছে, মৃত্যুর পর একদিনের মতো সময় পার হয়েছে এবং মরদেহে বিকৃতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আরও পড়ুন: আলহাজ্ব হাসান আলীর সুস্থতায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে বের হলেও এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন বিভুরঞ্জন সরকার। এ বিষয়ে তাঁর পরিবার রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে তিনি বনশ্রীর ‘আজকের পত্রিকা’ কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বললেও পরে জানা যায়, তিনি সেখানে যাননি। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে নেননি।

‘আজকের পত্রিকা’ সূত্রে জানা গেছে, বিভুরঞ্জন সরকার ১৬ আগস্ট থেকে সাত দিনের ছুটিতে ছিলেন।

বিভুরঞ্জন সরকারের ভাই চিররঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুকে লেখেন, “আমার দাদা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অন্যান্য দিনের মতো অফিস যাবেন বলে বাসা থেকে বের হন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি অফিসে যাননি, পরিচিত কারও সাথেও দেখা হয়নি, বাসায়ও ফেরেননি।”

প্রবীণ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে বহু সংবাদপত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কলাম লিখে পাঠকের আস্থা অর্জন করেন।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।